HomeSuccess Storiesদুবেলা খাবার জুটতো না তার আজ ১২৫টি স্টোরের মালিক রঘুনন্দন ৩০০ কোটির...

দুবেলা খাবার জুটতো না তার আজ ১২৫টি স্টোরের মালিক রঘুনন্দন ৩০০ কোটির ব্যবসা সামলাচ্ছেন

সকলেই জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চান, ধনী হতে চান। ধনী হওয়ার এই চেষ্টা তখনই সফল হয় যখন একজন মানুষ নিজের পরিশ্রম‌, একাগ্রতা, ধৈর্য ও নিষ্ঠা, সততার দ্বারা লক্ষ্যে পৌঁছতে চান। রঘুনন্দন এস কামাথও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়ে ছিলেন আর নিজের সৎ প্রচেষ্টা ও ধৈর্য্যের দ্বারা তিনি তা করে ও দেখিয়েছেন। শূন্য থেকে শুরু করে ছিলেন তিনি, আজ তিনি সফল একজন ব্যবসায়ী। ন্যাচারাল আইসক্রিম নামে বিখ্যাত একটি ব্র্যান্ডের ওপেনিং করেন তিনি।

আরও পড়ুন: মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইঞ্জিনিয়ারিং ছেড়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা, আজ তার বছরে আয় ৭১,০০০ কোটি টাকা!

শীতের কনকনে ঠান্ডা হোক অথবা গরমের কাঠফাটা রোদ্দুর আইসক্রিম পছন্দ নয় এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আইসক্রিম এমন একটা জিনিস যা শিশু থেকে বয়স্ক সকলের‌ই পছন্দের। তাই একটি আইসক্রিমের ব্র্যান্ড খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি, প্রথমে মুম্বাইতে একটি ছোট স্টোর খুলে ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দেশের মধ্যে আইসক্রিমের একটি বিখ্যাত ব্র্যান্ড হয়ে উঠেছে ন্যাচারাল আইসক্রিম।

কর্ণাটকের বাসিন্দা রঘুনন্দনের কামাথ। সেখানকার পুত্তুর তালুকের মুলকি নামের একটি ছোট্ট গ্রামেই জন্ম হয় তার। তার বাবার ফলের দোকান থেকে মাসে ১০০ টাকা‌ও উপার্জন হতো না সেই সময়। এদিকে পরিবারে মা বাবা ছাড়া তারা সাত ভাই বোন ছিলো, অর্থাৎ মোট সদস্য সংখ্যা ছিল নয়। ওই সামান্য রোজগারে সংসারের তাই নুন আনতে পান্তা ফুরায় দশার সৃষ্টি হয়। তাই ছোট থেকে আর্থিক অভাব-অনটনের মধ্যে কেটেছিল তার তাই একটু বড় হওয়ার পরই সে কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে। ১৫ বছর বয়সেই কাজ করবার জন্য মুম্বাইতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো সে। মুম্বাইতে এক আত্মীয়ের রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেছিল সে, কাজের শেষে জুহুর ১২/১২ ফুটের ছোট্ট একটি ঘরে থাকতো সে। কখনো এমন‌ও হয়েছে যে, ঘরে তার শোওয়ার জায়গা না পেয়ে সে খাটের নীচেই ঘুমোতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডে মাসিক ২০ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি করতেন, দেশে ফিরে ছাগলের ব্যবসা করে আয় ১ কোটি টাকা!

নিজের অবস্থার উন্নতি করার জন্য বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠে সে এবং বুঝতে পারে জীবনে উন্নতি করতে গেলে তাকে ব্যবসা শুরু করতে হবে কিন্তু ব্যবসা করতে গেলে তো টাকা প্রয়োজন। টাকা কোথায় পাবে সে? তাই টাকা সংগ্রহ করতে শুরু করে সে।

একসময় তার মনে হয় যদি আইসক্রিমের মধ্যে ফলের স্বাদ থাকতে পারে তাহলে আসল ফল থেকে আইসক্রিম বানানো যাবেনা কেন? নিজের এই ধারণা থেকেই ১৯৮৪ সালে মুম্বাইতে মাত্র চারজন কর্মচারীকে নিয়ে তিনি নিজের ব্যবসা শুরু করেছে। একদম ভিন্ন স্বাদের ন্যাচারাল এই আইসক্রিম খুব কম সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মানুষের কাছে। রঘুনন্দন যখন বুঝতে পারেন মানুষ তার ব্র্যান্ডটিকে গ্রহণ করছেন, তখন তিনি তার কোম্পানির তৈরি করা ১৫০টিরও বেশি স্বাদের আইসক্রিম বাজারে নিয়ে আসেন। এর মধ্যে লিচি, কলা, আমের আইসক্রিম ছিল অন্যতম।

এইভাবেই শুধুমাত্র সৎ প্রচেষ্টা, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মানসিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা ধীরে ধীরে একটি ব্র্যান্ড হয়ে যায় ন্যাচারাল আইসক্রিম। বর্তমানে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে ন্যাচারাল আইসক্রিম। বর্তমানে ভারতে এই ব্র্যান্ডটির ১২৫টি ষ্টোর রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি স্টোর তিনি নিজেই পরিচালনা করেন এবং বাকিগুলো অন্যান্যরা দেখাশোনা করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments