HomeSuccess Storiesএম বি এ পাস করা কবিতা আজ গোবরের ব্যবসা করে এক লক্ষ...

এম বি এ পাস করা কবিতা আজ গোবরের ব্যবসা করে এক লক্ষ টাকা ইনকাম করছেন

এ সংসারে কোনো কাজই ছোট নয়, কোন কাজ‌ই ফেলার নয়। যে মানুষ যে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ, সেই মানুষ যদি সেই কাজ‌ই মনোযোগ সহকারে করেন, তবে তিনি সেই কাজ থেকেই বিখ্যাত হতে পারেন। ঠিক যেমন ঝুনঝুনুর খুডানা গ্রামের বাসিন্দা কবিতা ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন যে, তিনি বস হবেন, তার আন্ডারে অনেক মানুষ কাজ করবেন। এই স্বপ্ন নিয়েই তিনি মুম্বাইতে এমবি পড়ছিলেন। এর‌ই মধ্যে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লকডাউন হয়ে যায়, তখন তিনি তার গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামে ফেরার পর নিজের ব্যবসা করবার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন কবিতা।


আরও চাকরির খবর: গোয়েন্দা দপ্তরের গ্রুপ সি পদে কর্মী নিয়োগ চলছে, কীভাবে করবেন আবেদন জেনে নিন


এরপর ঝুনঝুনুর রিকো শিল্প এলাকায় ভার্মি কম্পোস্ট প্ল্যান্ট লাগাতে শুরু করেন তিনি। গাছে গোবর দিয়ে তিনি ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করেন ও প্রতি কেজি সার আট টাকা দরে বিক্রি করেন। এই করেই তার মাসিক ইনকাম আজ এক লক্ষ টাকা। বর্তমানে কবিতার আন্ডারে কাজ করেন আরো দুজন মানুষ।

ভার্মি কম্পোস্টের মাধ্যমে আয় করার দুটি উপায়ের কথা জানান কবিতা। ভার্মি কম্পোস্ট বিক্রি করেও আয় করা যায় আর কেঁচো বিক্রি করেও আয় করা যায়। কবিতার কথায়, এই দুটি মাধ্যমেই তিনি আয় করেন, কেঁচো গুলিকে তিনি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। গোবরের উপর কেঁচো ঢেলে দেওয়ার পর প্রায় আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে কম্পোস্ট তৈরি করা হয়। এছাড়া সঠিক তাপমাত্রা ও আদ্রতা পেলে কেঁচো গুলো প্রায় ৯০ দিনে দ্বিগুণ হয়ে যায়। কবিতার উৎপাদিত এই ভার্মি কম্পোস্ট ঝুনঝুন শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হওয়ার পাশাপাশি দিল্লির আশেপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও বিক্রি হয়।


আরও খবর: ডিফেন্সে চাকরি না পেয়ে শুরু করেন চাষবাস, আজ তার ইনকাম মাসিক দেড় লক্ষ টাকা


এছাড়া ব্যবসার সাথে সাথে গ্রামগঞ্জের মানুষকে কীটনাশকের ব্যবহারের বিষয়ে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ভয়ঙ্কর রোগ সম্পর্কের বিষয়েও সচেতন করেন তিনি। গ্রামের কিছু লোকদের চাকরির ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন কবিতা আর এইভাবে ব্যবসার সাথে সাথে সামাজিক কাজ‌ও করে চলেছেন তিনি।

কবিতার এই কাজে সে কিন্তু একা নয়। তার মাও তাকে সহযোগিতা করেছেন এমনকি ফৌজি থেকে রিটার্ড করার পর তার বাবাও এখন তার পাশে দাঁড়িয়ে ব্যবসা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কবিতার মায়ের কথায়, কবিতা প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে এবং পরবর্তীতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে স্নাতক হয় সে। এরপর মুম্বাইতে নামি কলেজ থেকে এম বি এ পাশ করেছে। মেয়ের এই ব্যবসা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তার যে মেয়ে কখনো গোবরে হাত লাগাই নি, সেই আজ গোবরের ব্যবসা করছে দেখে তিনি একই সাথে আশ্চর্য এবং গর্বিত হচ্ছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments